মানবসেবায় শীতার্তদের পাশে দাঁড়ান

০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:১০
মুফতি শরীফুল ইসলাম

মহান আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় ঋতুর পালাবদল হয়। রাত দিনের পরিবর্তন, গ্রীষ্ম বর্ষা ও শীত এর পালাবদল মহান মালিকের নির্দেশনায়ই হয়। বাংলাদেশকে ষড়ঋতুর দেশ বলা হলেও‌ বর্তমানে আমরা দুইটি ঋতুর প্রভাব বেশি দেখতে পাই। একটি হলো গ্রীষ্মকাল, অন্যটি হলো শীতকাল। সমাজের স্বচ্ছল মানুষের ঘরে বছর ঘুরে শীতকাল ঋতু হিসেবে আনন্দ ও খুশির উপলক্ষ হলেও দেশের  হতদরিদ্র ও নিম্নবিত্ত শ্রেণীর বৃহৎ জনগোষ্ঠির জন্য শীত নৈরাশ ও বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আমরা যারা শহরে থাকি তারা হয়তো শীতের তীব্রতা বুঝতেই পারি না। কিন্তু গ্রামের অসহায় অস্বচ্ছল মানুষগুলো কাবু হয়ে যায় তীব্র শীতের কাছে। অনেকের কাছেই থাকে না শীত নিবারণের সামান্য বস্ত্রটুকুও। যারা সচ্ছল তাদের কাছে শীতের রাত আরামদায়ক হলেও দরিদ্র অসহায়দের জন্য তা চরম দুর্ভোগের।

যারা অসহায়, অসচ্ছল, গরিব-দুঃখী, তারা শীতকালে অনেক ভোগান্তিতে পড়ে। শীতের রাতে ফুটপাত, রেলওয়ে স্টেশন, বাসস্ট্যান্ডে দেখা যায় খোলা আকাশের নিচে কীভাবে শীতবস্ত্রবিহীন মানুষ নিদারুণ কষ্টে রাত কাটাচ্ছে। তাদের নেই কোনো শীত নিবারণ করার কম্বল নামের সম্বল। নিজেকে একবার তাদের জায়গায় ভেবে দেখুন তো, পারবেন কি সহ্য করতে শীতের এই তীব্রতা? দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায়, শীতের তীব্রতায় দুস্থ, নিঃস্ব, ছিন্নমূল, গরিব, দুঃখী, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা নিদারুণ কষ্ট পায়। কনকনে হিমেল হাওয়া ও তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দরিদ্র জনগোষ্ঠী-অধ্যুষিত অঞ্চলে বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং মানুষের অসহায়ত্বকে প্রকট করে তোলে। তাই শীতার্ত হতদরিদ্র মানুষের প্রতি সমাজের সামর্থবান ও বিত্তশালী ব্যক্তিদের সাহায্য ও সহানুভূতির হাত সম্প্রসারিত করে তাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে শীতবস্ত্র বিতরণ করা প্রয়োজন। মানবিক কারণেই তাদের পাশে এসে দাঁড়ানো দরকার। 

নিঃস্বার্থভাবে শীতার্ত মানুষের সাহায্য ও সেবা করা মহৎ ও পুণ্যময় কাজ এবং অবশ্যই উত্তম ইবাদত হিসাবে গণ্য হবে।

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। আর সেই মানুষেরই একটা অংশ গরিব-দুস্থ। তারা আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার ন্যূনতম মৌলিক অধিকারগুলো তাদেরও প্রাপ্য। তাই গরিব-অসহায়, দুস্থের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা প্রদর্শন ও সহানুভূতিশীল হওয়া অত্যাবশ্যক। আসুন আমরা মানবিক মূল্যবোধ থেকে সবাই মিলে অসহায় ছিন্নমূল মানুষের পাশে সামর্থের ভিত্তিতে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করি।

আপনি যখন কম্বল মুড়ি দিয়ে উষ্ণতার মাঝে ডুবে আছেন একইসময় এসব শীতার্ত মানুষগুলো তখনো আপনার অপেক্ষায় আছে। আশায় আছে সমাজের সচ্ছল বিত্তবানরা তাদের পাশে দাঁড়াবেন, শীতের চরম কষ্ট থেকে তাদের বাঁচাবেন।

আসুন সবাই মিলে চেষ্টা করি। শীতার্ত মানুষের গায়ে জড়িয়ে দিই এক টুকরো গরম কাপড়।

 সবাই এগিয়ে আসুন। আপনার আমার সামান্য ত্যাগের বিনিময়ে শীতের কষ্ট থেকে মুক্তি পাবে একজন অসহায় মানুষ, একটি দরিদ্র পরিবার।

আল্লাহ তাআলার ঘোষণা, ‘তাদের (বিত্তশালী) ধনসম্পদে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে’ (সূরা জারিয়াত : ১৯)। 

প্রিয়নবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে মুসলমান অপর কোনো মুসলমানকে বস্ত্রহীন অবস্থায় বস্ত্র দান করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে সবুজবর্ণের পোশাক পরাবেন, খাদ্য দান করলে তাকে জান্নাতের ফল খাওয়াবেন, পানি পান করালে জান্নাতের শরবত পান করাবেন’ (আবু দাউদ শরিফ)।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘বান্দা যতক্ষণ তার ভাইকে সাহায্য করে, আল্লাহ ততক্ষণ বান্দাকে সাহায্য করে থাকেন’। (মুসলিম) 

রাসূল (সা.) আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে অপরের একটি জরুরত মিটিয়ে দেবে, পরকালে আল্লাহ তার ১০০ হাজত পূরণ করে দেবেন এবং বান্দার দুঃখ-দুর্দশায় কেউ সহযোগিতার হাত বাড়ালে আল্লাহ তার প্রতি করুণার দৃষ্টি দেন’ (মুসলিম শরিফ)।

শীতের রাতে কম্বল আর কাঁথা মুড়ি দিয়ে আমরা আরাম করে ঘুমাই। অথচ চারপাশে অনেক প্রতিবেশী এমন আছেন, যারা শীতে কষ্ট পাচ্ছেন। লক্ষ করলে দেখা যাবে, রাস্তার ওপর আশ্রয় নেয়া অনেক বৃদ্ধ ও শিশু শীতে কষ্ট পায়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী অনেক বৃদ্ধ ও শিশু শীতে ঘুমাতে পারে না। আমরা একটু সচেতন হলে এসব মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি। নিজের আয়ের সামান্য অংশ দিয়ে তাদের কয়েকটি কম্বল অথবা শীতবস্ত্র কিনে দিতে পারি। মানুষ মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানোর মধ্যে একটা অন্যরকম আত্মতৃপ্তি আছে। আসুন, আমরা ফিকির করি কীভাবে অসহায় শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে তৌফিক দান করুন।

মন্তব্য লিখুন :